প্রকাশের সময়: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৮:৪২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার।
শনিবার ৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ চাঁদ টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে এ আড্ডার আয়োজন করা হয়।
পাঠাগারের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক ও মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে আলোচনা করেন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি, উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, মোহাম্মদ শাহ আলম, রেলওয়ে কিন্ডারগার্টের অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম, ইনার হুইল ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিতু আক্তার, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, স্কুল শিক্ষক সিত্তূল মুনা চৈতী, সাহিত্যানুরাগী ঝরনা আক্তার, ফারজানা ও সাংবাদিক জামাল আখন্দ।
পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, বেগম রোকেয়া নারী সমাজকে জাগ্রত করেছেন। শুধুমাত্র ঘর গোছানোর দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীরা যে সমান অবদান রাখতে পারে সে বিষয়ে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে তিনি জাগিয়ে তুলেছেন। একটু দেরিতে হলেও তার সাহিত্য এবং সংগ্রাম সফলতার মুখ দেখেছে। নারীরা এখন সকল দিকেই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া পুরুষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। তিনি অবস্থান নিয়েছেন পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার কুসংস্কার ও অসঙ্গতিসমূহের বিরুদ্ধে। তার অগ্রযাত্রার পেছনে পুরষদের অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশি। তার স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং কুসংস্কারমুক্ত ও প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তি। উদার ও মুক্তমনের অধিকারী স্বামীর উৎসাহ এবং সহযোগিতায় বেগম রোকেয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছিলেন। ভাইয়েরা তাকে পড়াশোনার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
সভাপ্রধান মিজানুর রহমান স্বপন বলেন, বেগম রোকেয়ার হাত ধরে নারী উন্নয়নের যে আন্দোলন সূচনা হয়েছিলো তার সুফল এখনকার নারীরা ভোগ করছে। তার আন্দোলন সংগ্রামের পথটুকু পুষ্পসজ্জিত ছিলো না।
তিনি অনেক লড়াই সংগ্রাম করে নারীদেরকে গৃহকোণ থেকে বাইরে এনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বেগম রোকেয়ার নামে এখন বিশ^বিদ্যালয় চালু হয়েছে। যে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে সে আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
অনুষ্ঠানে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা। সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করতে অনুষ্ঠানের পর ইনার হুইল ক্লাবের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ।
উল্লেখ্য, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ওরূপে বেগম রোকেয়া ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন রংপুরে। তিনি বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী লেখক। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে ৬ষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া।
ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও শ্লেষাত্মক রচনায় রোকেয়ার স্টাইল ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। উদ্ভাবনা, যুক্তিবাদিতা এবং কৌতুকপ্রিয়তা তার রচনার সহজাত বৈশিষ্ট্য। রোকেয়ার কর্ম ও আদর্শ উদযাপন লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন করে এবং বিশিষ্ট নারীদের অনন্য অর্জনের জন্য বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে।
৯ ডিসেম্বর ১৯৩২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন