শাহরাস্তিতে সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল মালেক (৩৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি সহকারী।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে তাকে আটক করার পর রোববার (৭ ডিসেম্বর) আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ । পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে , গত বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে দুই ছাত্রী মাদরাসায় গেলে তখন অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন না।
ওই সুযোগে শিক্ষক আব্দুল মালেক ৭ম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী (জা) (১৪) ও (আ) (১৪)-কে কুপ্রস্তাব দেন এবং তাদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর দুই শিক্ষার্থী বিষয়টি মাদরাসার অধ্যক্ষ একরামুল হক মজুমদারকে জানালে তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে বরং তাদের ধমক দেন বলে দাবি করেছে পরিবার গুলো।
এ প্রসঙ্গে মাদরাসার অভিভাবক সদস্য ইব্রাহিম খলিল মঞ্জু বলেন, অধ্যক্ষ বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিলে তা এতদূর গড়াতোনা।তিনি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ একরামুল হক মজুমদার বলেন, সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না।পরে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছেন থানার এসআই (নিঃ) মোঃ রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাসার পিপিএম (বার) বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ধারা ৯(৪)(খ) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি