শাহরাস্তিতে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে দখলমুক্ত হচ্ছে ঐতিহাসিক মেহেরগোদা খাল।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে পৌর শহরের ঠাকুর বাজার এলাকায় মেহের গোদা খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত আমানিয়া হোটেলের ভৌত অবকাঠামো (স্থাপনার) বর্ধিত অবশিষ্ট অংশ ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়।
খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত ও দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান সরকারের নির্দেশনায় শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমার সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল শাহাদাত (ফাহিম)।অভিযানে উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, শাহরাস্তি থানা পুলিশ, শাহরাস্তি পৌরসভা এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সমন্বিত তৎপরতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অভিযান সম্পন্ন হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ঠাকুর বাজার এলাকায় মেহেরগোদা খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিত এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল।
জনস্বার্থে খাল রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ধারাবাহিক উচ্ছেদ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল শাহাদাত (ফাহিম) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ঐতিহাসিক মেহেরগোদা খাল দখলমুক্ত করতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। খাল সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। পর্যায়ক্রমে খালের ওপর অবস্থিত সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ মার্চ থেকে এক মাসব্যাপী শাহরাস্তি অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেহেরগোদা খালের মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিন অপসারণ, সংস্কার কাজ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদারের সহযোগিতায় ভেকু মেশিন ব্যবহার করে গত ৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আমানিয়া হোটেলের আংশিক অংশ ভাঙা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দ্বিতীয় ধাপের অভিযানে অবশিষ্ট অংশ ভেঙে খালটি দখলমুক্ত করা হলো।

নিজস্ব প্রতিনিধি