প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৮:১৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে প্রতিবন্ধী শান্তার পাশে পিপল ফাস্ট হেলপ অর্গানাইজেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শাহিনুর আক্তার শান্তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন পিপল ফাস্ট হেলপ অর্গানাইজেশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শান্তার বাবা শাহ আলম বেপারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অটোরিকশাটি হস্তান্তর করা হয়।

সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা শেখ বেলায়েত হোসেনের সঞ্চালনকৃত অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খাজুরিয়া ইয়ুথ ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম মানিক, স্থানীয় ইউপি সদস্য মাছুম বিল্লাহ এবং আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ মোশারফসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

অটো রিক্সা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ বেলায়েত বলেন, গত নভেম্বর মাসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমরা জানতে পারি, ষোলদানা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান, শারীরিক প্রতিবন্ধী শান্তার কলেজ যাতায়াতের জন্য একটি হুইলচেয়ারের প্রয়োজন এমন একটি সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে।

বিষয়টি নজরে আসার পর আমাদের সভাপতি সালাউদ্দিন সজিব উদ্যোগ নেন পরিবারটিকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার। শান্তার কলেজ যাতায়াতের রাস্তাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হওয়ায় ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার না দিয়ে তার বাবার জন্য একটি অটোরিকশা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এই অটোরিকশার মাধ্যমে শান্তার বাবা নিয়মিত তাকে কলেজে আনা-নেওয়া করতে পারবেন এবং অবশিষ্ট সময়ে অটো চালিয়ে পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ করতে পারবেন। এতে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাছুম বিল্লাহ বলেন, শান্তা আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আমার প্রতিবেশী। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোভাবে সংসার চালাতেন। আজ পিপল ফাস্ট হেলপ অর্গানাইজেশনের দেওয়া এই অটোরিকশা পরিবারটির জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে। আমি সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

অটোরিকশা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শান্তার বাবা শাহ আলম বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। চার সন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবার চালানো কঠিন ছিল। শান্তা পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না। কলেজে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা খরচ হতো, যা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না। আজ এই অটোরিকশা পেয়ে আমি শান্তাকে কলেজে আনা-নেওয়ার পাশাপাশি আয় করে পরিবারের সব খরচ চালাতে পারব। এই উপকারের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

শান্তা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, অনেক বছর ধরে একটি ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারের আশায় ছিলাম। আজ আল্লাহ আমাদের জন্য এর চেয়েও বড় একটি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন নিয়মিত কলেজে যেতে পারব। পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং আমার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে চাই। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

এ সময়  পিপল ফাস্ট হেলপ অর্গানাইজেশনের দায়িত্বশীলদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক হাসান আখন, সহ-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব আহম্মেদ, সহ-সভাপতি শিমুল চন্দ্র লোধ, প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আলম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সদস্য ইব্রাহিম খলিল জুয়েল ও তামজিদ ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, পিপল ফাস্ট হেলপ অর্গানাইজেশন ২০১৫ সাল থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা জানান, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন