প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৮:৩৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় গাড়ল-ভেরার খামার পাহারায় জার্মান শেফার্ড কুকুর

মোঃ রাছেল, কচুয়া

খোলা মাঠে চরে বেড়াচ্ছে একদল ভেড়া, আর একটু দূরেই বসে সেগুলোর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে একটি কুকুর। প্রাণিগুলো নির্দিষ্ট গন্ডি ছেড়ে বেরোলেই দৌঁড়ে গিয়ে তাদেরকে শাসিয়ে আবার ঠিক জায়গায় ফেরাচ্ছে কুকুরটি। শুধু তাই নয়, অপরিচিত কোনো ব্যক্তি কিংবা বিপদের আঁচ করতে পারলে জানান দিচ্ছে মালিককে।

এমন দৃশ্য বিদেশে দেখা গেলেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সত্যিই বিরল। তবে গাড়ল ও হাঁস মুরগি পালনে এমন এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছেন চাঁদপুরের কচুয়ায় মালোশিয়ান প্রবাসী আবু নাছের মিয়াজী। তার খামারের প্রাণিদের নিরাপত্তা দিচ্ছে একটি জার্মান শেফার্ড জাতের কুকুর।

দেশের মাটিতে কিছু করার ইচ্ছে… সেই ইচ্ছে থেকেই মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে নিজের এলাকায় স্বপ্ন দেখেছিলেন আবু নাছের মিয়াজী। আর সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা গ্রামের বিস্তীর্ণ বিলের বুকে গড়ে ওঠা ‘আল হামিদ এগ্রো ফার্ম’-এ।

জার্মান শেফার্ডের মালিক ও (উদ্যোক্তা) আবু নাছের মিয়াজী জানান,  কুকুরটি তার খামারে শতভাগ নিরাপত্তা দিচ্ছে। কুকুরটি যখন রাতে পাহারা দেয় সেই বলয়ের মধ্যে বাইরের কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা কোনো প্রাণি ঢুকে পড়লে তখন ও খুব জোরে চিকৎকার করে এবং তেড়ে যায়। ফলে আমাদের কর্মীরা এ বিষয়ে আন্দাজ করতে পারে। নিরাপত্তার ব্যাপারে যেখানে আমাদের তিন থেকে চারজন কর্মীর প্রয়োজন, সেখানে এই কুকুরটি একাই সেসব সামলে নিচ্ছে।

কুকুরটির দেখাশোনা করা কর্মচারী জানান, কুকুরটির কারণে আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি। কোনো চোর ডাকাত এলে ও একাই সব সামলে নিয়ে আমাদের জানান দেয়। আর সকালে যখন ভেড়াগুলো বের করি কুকুরটি ওদের সঙ্গে থাকে, এজন্য ভেড়াগুলোও অন্য কোথাও যেতে পারে না। কুকুরটি থাকায় এই পশুগুলো দেখাশোনা করতে আমাদের কম লোকেই হয়ে যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বুদ্ধিমান কুকুরের জাত হলো জার্মান শেফার্ড। বুদ্ধিমত্তা, আনুগত্য ও কর্মক্ষমতার জন্য এই কুকুরটি বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই প্রজাতির কুকুর পালনের আগ্রহ বাড়ছে। জার্মান শেফার্ড শুধু একটি পোষা প্রাণী নয়, বরং এটি পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী ও রক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে।

বর্তমানে বিভিন্ন খামারে নিরাপত্তা বাড়াতে অনেকেই এই জাতের কুকুর পালন করতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা পশুপালন খাতেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন