শাহরাস্তিতে রাতের আঁধারে কৃষি জমির উর্বর টপ সয়েল কাটার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রশাসনের অভিযান চললেও মাটি ব্যবসায়ীরা কৌশলে তা এড়িয়ে চলে। এতে উপজেলার কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন কখন মাঠে নামবে তা আগাম জানতে মাটি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সড়ক ও বাজারে নিজস্ব লোক মোতায়েন করে রাখে। ফলে অভিযান পরিচালিত হওয়ার আগেই অধিকাংশ মাটি কাটার শ্রমিক ও ভেকু সরিয়ে ফেলা হয়।
উপজেলায় প্রায় ২৫টি ইট-ভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার অধিকাংশ ইট তৈরির মাটি আসে কৃষি জমি থেকেই। কোথাও কোথাও জমির ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত গভীর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে ফলন।
চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের স্বেতি নারায়নপুর মাঠ, পাথৈর মাঠ, সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের সূচীপাড়া মাঠ, চাঁদপুর মাঠ, বড়ুয়া মাঠ, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন, রায়শ্রী দক্ষিণ, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন, পৌরসভার নোয়াঁগাও ও ছিখুটিয়া ব্রিজসংলগ্ন মাঠসহ অন্তত ১০ ইউনিয়নে রাতভর মাটি কাটার চিত্র নিয়মিত দেখা যায়।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তিতে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর কৃষি আবাদি জমি রয়েছে। এর বড় অংশের টপ সয়েল কাটায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক কৃষক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টাকার লোভে জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন।
কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মাটি কাটার কারণে জমিতে আগের মতো ফসল ফলছে না।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, “টপ সয়েল কাটার ঘটনায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ভেকুর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সবাইকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে বলা হচ্ছে। কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দায়িত্বশীলদের কঠোর নজরদারি না বাড়ালে শাহরাস্তির উর্বর কৃষিজমি কতদিন টিকে থাকবে?

রাফিউ হাসান হামজা