প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:৩৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী! সুযোগ খুঁজছে জামায়াত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই আসনটি। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার সুযোগ নিতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী।

এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। তবে একই দলের বহিষ্কৃত নেতা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগাতে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর-৪ আসনে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপির দুই প্রার্থীর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব জামায়াতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৬ জন। আসনটিতে মোট ১১৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৩৭টি ভোটকক্ষ রয়েছে।

স্থানীয় ভোটাররা জানান “এবারের নির্বাচনি পরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আলাদা। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।”

রাজনৈতিক ইতিহাসের দিক থেকেও চাঁদপুর-৪ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও পরবর্তী তিনটি নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে। এবারের নির্বাচনে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে নাকি পুরোনো সমীকরণে পরিবর্তন আসবে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান অভিযোগ করে বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকরা আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।”
তিনি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী বলেন,আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কেউ যদি কেন্দ্র দখল বা ভোট কারচুপির চেষ্টা করে, জনগণ তা মেনে নেবে না। এবার ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন।”

বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন,বিএনপি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। সততা, যোগ্যতা ও মানুষের সেবার মাধ্যমে রাজনীতি করাই আমাদের লক্ষ্য। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সব মিলিয়ে চাঁদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী লড়াই দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিভাজন, শক্ত প্রচারণা ও ভোটারদের সচেতনতা—সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ফলাফল ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন