প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৯:১৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে এমএ হান্নানের বিজয়

এস. এম ইকবাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলহাজ্ব এমএ হান্নান বৈধ ভোটের ৩৪.৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আঞ্চলিক ভোটের ব্যবধান ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে তার এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মোট ১১৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এমএ হান্নান ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রে এগিয়ে থেকে মোট ৭৩ হাজার ৪৬৬ ভোট অর্জন করেন। বৈধ ভোটের হিসেবে তার প্রাপ্তির হার দাঁড়ায় ৩৪.৯৮ শতাংশ।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ৫২টি কেন্দ্রে এগিয়ে থাকলেও মোট ভোটের হিসেবে পিছিয়ে পড়েন। তিনি পান ৬৭ হাজার ৮৩৪ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের ৩২.৩৩ শতাংশ। ফলে অধিকসংখ্যক কেন্দ্রে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত উপজেলার জয়ী হতে পারেননি তিনি।
নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ আসনে মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা স্থানীয় নির্বাচনী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির ১নং সদস্য আলহাজ্ব এমএ হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের প্রভাব থাকলেও এবার সেই ধারা ভেঙে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই জানান, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সমাজসেবা ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে তারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ফলে এবারের নির্বাচনের ফলাফল ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ১ নম্বর থেকে ৮ নম্বর ইউনিয়নের ৫২টি ভোটকেন্দ্রে এমএ হান্নান মোট ৪৫ হাজার ৭ ভোট পেয়েছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভোটের শক্তিশালী সমর্থনই তার বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দলমত নির্বিশেষে নিজ এলাকার ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় তিনি বিজয়ের পথে এগিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপি ও যুবদল এবং ছাত্রদলের কমিটি স্থগিত করে এমএ হান্নানকে নির্বাচনে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনতা ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা তা ভুল প্রমাণ করেছেন।
এদিকে আলহাজ্ব এমএ হান্নান জয়ী হওয়ার পর সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন