প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:০৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ঘুষ দিতে গিয়ে শিক্ষক আটক, ৮ লাখ টাকা জব্দ

অনলাইন ডেস্ক

এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুপারিশ আদায়ের লক্ষ্যে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসে রংপুরে আটক হয়েছেন কুড়িগ্রামের এক সাবেক শিক্ষক। তিনি কাজাইকাটা হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তি হলেন মাইদুল ইসলাম খান (৫০)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা এবং হাজী আব্দুর সবুর খানের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও সুপারিশের জন্য আঞ্চলিক দপ্তরে তদবির করে আসছিলেন।

কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে একটি কার্টনে করে নগদ ৮ লাখ টাকা নিয়ে তিনি রংপুরে আসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগমের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি সুপারিশের বিনিময়ে ওই টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।

ঘটনার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, “নির্বাচনের আগ থেকেই ওই ব্যক্তি বিভিন্নভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। তিনি বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, সুপারিশের বিষয়ে ‘সহযোগিতা’ করতে চান। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম, নিয়মের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। সোমবার তিনি সরাসরি অফিসে এসে নগদ ৮ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করি এবং সংশ্লিষ্টদের অবহিত করি।

তিনি আরো বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এমপিও সংক্রান্ত সব কার্যক্রম নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হয়। কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে ঘুষ দিয়ে সুবিধা নিতে চান, তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমি চাই এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা করার সাহস না পায়।”

অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম খান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে তিনি স্বীকার করেন যে, এমপিও সুপারিশ পেতে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসেছিলেন। তবে কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কোতোয়ালি থানা সূত্র জানায়, ঘুষ দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে নগদ ৮ লাখ টাকা। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিওভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনৈতিক লেনদেন পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এমন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এমপিও প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে, যাতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা তদবিরের সুযোগ কমে আসে। ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন