প্রকাশের সময়: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ । ১২:০২ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনায় সালিশে ‘অপমান’ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আ’ত্ম’হ’ত্যা

এস. এম ইকবাল
ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের রায় ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের মিজি বাড়িতে ঘটেছে। রাত প্রায় সাড়ে নয়টায় থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে ‘নাকে খত’ দেওয়ানো এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম জানান, “হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে বারবার মারধর ও হুমকি দেয়। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে মাদ্রাসায় গেলে পরে খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। এছাড়া আমাদের ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।”
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, “এটি আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আ. গনি বলেন, “আমি বাড়ির অভিভাবক হলেও আমাকে না জানিয়েই বিচার করা হয়েছে। বিচার সঠিক হয়েছে কি না জানি না, তবে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী জানান, “শুক্রবার রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রাত সাড়ে দশটায় মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন