চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল থেকে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২–৩ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার (৮ মার্চ) রাতে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম নিয়মিত টহল ও মাদকবিরোধী অভিযানে ছিল। এ সময় থানার ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে খবর আসে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবাদ এলাকার এ.জে.আর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি লিমিটেড কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে একটি পার্সেলে বিপুল পরিমাণ মাদক থাকতে পারে।
খবর পেয়ে পিএসআই সৌরভ হাদীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে DHL লেখা একটি বাদামি রঙের বক্স দেখান। পরে সেটি খুলে ভেতর থেকে ৯টি প্যাকেটে মোট ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার্সেলের ভেতরে গাঁজার পাশাপাশি কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও ছিল। এর মধ্যে ছিল ওরাল ফ্রেশ ব্রাশ, ফুড কেয়ার ওটস এবং কিচেন ক্লিনার। পার্সেলের বুকিং মেমোতে প্রেরক হিসেবে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ, হাজীগঞ্জ’ এবং প্রাপক হিসেবে ‘পাখি স্টোর, বরিশাল’ নাম লেখা ছিল।
কুরিয়ার সার্ভিসের কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানান, রোববার দুপুরে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ৩৫০ টাকা দিয়ে পার্সেলটি বুকিং করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পার্সেলটি গাড়িতে তোলার সময় বক্সের ভেতরে সন্দেহজনক কিছু থাকতে পারে বলে মনে হলে তারা পুলিশকে খবর দেন।
হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পিএসআই সৌরভ হাদী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত করছেন হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূরমোহাম্মদ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে মাদকটি অন্য জেলায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি