প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ । ৯:৫৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা : গ্রেফতার-১

এস. এম ইকবাল
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত এক বৃদ্ধের পরদিন মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তবে বাকি অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গুপ্টি গ্রামের মজুমদার বাড়ির ইজমালি কবরস্থান থেকে অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটছিলেন একই বাড়ির কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় ৬২ বছর বয়সী আলী হায়দার মজুমদার গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত ইসমাইল, ফয়েজ, সোহাগসহ কয়েকজন মিলে আলী হায়দারকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার সকালে তাকে হাজীগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাতের দিকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী লুতফুর রহমান মজুমদার জানান, কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। আলী হায়দার প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়। বাধা দিতে গিয়ে আমি নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হই।
নিহতের পুত্রবধূ আছমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার শ্বশুরকে ৬-৭ জন মিলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
জানা গেছে, নিহত আলী হায়দার মজুমদার মৃত ছেরাজল হক মজুমদারের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- ইসমাইল (৪৫), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম দুলালি (৩৫), হাজেরা বেগম (৫৫), ফয়েজ (৪০) ও সোহাগ (৩৫)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং নিহতের আত্মীয়।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মোঃ নুরুল আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ সময় অভিযুক্তদের মধ্যে ফাতেমা বেগম দুলালিকে গ্রেফতার করা হয়।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, “গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন