প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ । ১১:৫০ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ঝড়ে লন্ডভন্ড মতলব, বিদ্যুৎবিহীন ৩ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টা ধরে এসব এলাকার প্রায় তিন লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে সংযোগ চালু করতে আরও ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তীব্র ঝড়ের পরপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় অন্তত অর্ধশত গ্রাম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর পড়ে। এতে প্রায় ৮০টি স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয় এবং অন্তত ২০০টি গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

মতলব উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বাণিজ্যিক এবং ৪০০ শিল্প গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপজেলা প্রশাসন, থানা এবং দুটি নৌ পুলিশ ফাঁড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোও বিপাকে পড়েছে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ২৫টি খুঁটি উপড়ে গেছে এবং প্রায় ৬০টি স্থানে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা স্থানীয় শ্রমিকদের সহায়তায় দিনরাত কাজ করছেন। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইন্দুরিয়া, ইসলামাবাদ, টরকি, একলাশপুর, কলাকান্দা, রাড়ীকান্দি, পাঁচানী, কালিপুর, ছটাকি, মোহনপুর, সুজাতপুর, গজরা ও ষাটনল এলাকায় খুঁটি ভেঙে পড়ে আছে এবং ছেঁড়া তার ঝুলছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকের ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের নিয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে।

দাসের বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী শফিক দর্জি বলেন, বিদ্যুৎনির্ভর কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। কর্মচারীরা কাজ করতে পারছেন না।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে সংরক্ষিত কেমিকেলের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভ্যাকসিন সংরক্ষণ–দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ঝুঁকিতে পড়েছে। জেনারেটর না থাকায় ২৪ ঘণ্টার বেশি এভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ভারপ্রাপ্ত এজিএম মোহাম্মদ নাঈম বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু এলাকায় সংযোগ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন