প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ । ১১:০১ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বাংলাদেশির ‘কালো তালিকা’: প্রকাশ পেল ভয়ংকর সব অপরাধ!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ১০ বাংলাদেশির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে চলমান জিরো টলারেন্স অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক পাচার এবং সশস্ত্র ডাকাতির মতো জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত।

​অপরাধের ভয়াবহতা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ডেপুটি সেক্রেটারি লরেন বেস এক কড়া বার্তায় বলেন, “যারা শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে, আমেরিকায় তাদের কোনো স্থান নেই। এরা সমাজের জন্য বিষফোঁড়া।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অপরাধীদের নিকৃষ্টতম (Worst of the Worst) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক বছরে আইসিই প্রায় ৪ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে আটক করেছে, যার মধ্যে ৫৬ হাজারই অতীতে গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত।

​অভিযুক্ত ১০ বাংলাদেশির প্রোফাইল ও অপরাধের ধরন

​১. কাজী আবু সাঈদ (কানসাস): ফোর্ট স্কট এলাকার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন নিপীড়ন, শোষণ এবং অবৈধ জুয়া পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

​২. শহীদ হাসান (নর্থ ক্যারোলাইনা): রেলি এলাকার এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ গোপন অস্ত্র বহন এবং চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

​৩. মোহাম্মদ আহমেদ (বাফেলো, নিউ ইয়র্ক): তার বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

​৪. মো. হোসেন (কুইন্স, নিউ ইয়র্ক সিটি): নিউ ইয়র্কের ব্যস্ততম এলাকা কুইন্স থেকে গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

​৫. মেহতাবউদ্দিন আহমেদ (ভার্জিনিয়া): চ্যান্টিলি এলাকার এই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গাঁজা এবং হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন।

​৬. নওয়াজ খান (টেক্সাস): মার্লিন এলাকার এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক মাদক সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

​৭. শাহরিয়ার আবির (ফ্লোরিডা): পেন্সকোলা থেকে গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে।

​৮. আলমগীর চৌধুরী (মিশিগান): মাউন্ট ক্লেমেন্সের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

​৯. ইশতিয়াক রফিক (ভার্জিনিয়া): মানাসাস এলাকার এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র আইন লঙ্ঘন এবং সিনথেটিক মাদক রাখার অভিযোগ রয়েছে।

​১০. কনক পারভেজ (অ্যারিজোনা): ফিনিক্স এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

​অভিযানের পরবর্তী ধাপ

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি স্পষ্ট করেছে যে, এই অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করেই চালানো হচ্ছে যারা আমেরিকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। গ্রেপ্তারকৃতদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (Deportation) প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই তালিকা প্রকাশের পর প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​তথ্যসূত্র: ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) ও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) রিপোর্ট, ২০২৬।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন