শাহরাস্তিতে পিতৃত্বের পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে নিজের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক পাষণ্ড পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লালসার শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মিঠুন দাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ঢাকা ( ডিএমপির) কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ জসিম উদ্দিন (৩৭)-কে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির চেঙ্গাছাল গ্রামের (কেশা হাজী বাড়ি) মৃত জহিরুল হকের ছেলে। ওই ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা (এফআইআর নং-৪, তারিখ: ৬ মার্চ ২০২৬; জিআর নং-৪৩) দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তার ১৫ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রী কন্যাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল।
সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা শিরিন আক্তার সন্দেহবশত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পরিবারে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি চাউর হলে সামাজিক লোকলজ্জা ও আতঙ্কে কিশোরীকে গর্ভপাতের উদ্দেশ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুরে তার নানাবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি খোরশেদ আলম এবং যুবদল নেতা সাখাওয়াত হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি সে ওয়ার্ডের জামায়াত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। ওইসময় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পুলিশ পাঠাই। তবে বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল এবং নানাবাড়িতেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইতোপূর্বে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিনিধি