প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ । ৬:১০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়া কোমরকাশায় সম্পত্তি বিরোধে দুই পক্ষের উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিনিধি

‎কচুয়ায় কোমরকাশা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে মামলা ও হয়রানির বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা অথবা আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
‎

স্থানীয়রা জানান,কোমরকাশা জামালিয়া কমপ্লেক্স ও কোমরকাশা গ্রামের অধিবাসী ইতালি প্রবাসী আবুল কামালের সাথে ২০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ,এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে এই জমিজমা বিরোধের জের ধরে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ঘটতে পারে ।
‎

স্থানীয়রা আরো জানান,১৯৮৪ সালে কোমরকাশা মৌজার ১০৪ দাগের ২০ শতাংশ জমি এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আব্দুল লতিফের বরাবর দান করেন জমিদাতা আম্বর আলী।

পাশাপাশি তিনি দলিলেও উল্লেখ করেন যদি এবতেদায়ী মাদ্রাসা না হয়,তাহলে তিনি এই জমির মালিক হিসেবে থাকবেন। ওই সময় এবতেদায়ী মাদ্রাসা না হওয়াতে আম্বর আলী ওই এলাকার অধিবাসী মোঃ মনিরুজ্জামান এর কাছে ১৯৯০ সালে সাফ কবলা (খরিদা) দলিলে পুনরায় জায়গাটি বিক্রি করে দেন । পরবর্তীতে ২০০৫ সালে মনিরুজ্জামান ওই এলাকার ইতালির প্রবাসী আবুল কালাম এর কাছে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।
‎

ইতালি প্রবাসী আবুল কালাম জানান, আমি ইতালি থেকে ২০০৫ সালে এলাকায় এসে মনিরুজ্জামান, নুরুজ্জামান ও আনারুজ্জামানের কাছ ১৪২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করি।

ওই সময় বিভিন্ন কারণে মনিরুজ্জামানের এই ২০ শতাংশ জায়গা আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেননি। কিন্তু এই জায়গার জন্য আমার কাছ থেকে বায়নার টাকা নিয়েছেন এবং আমি ২০ বছর ধরে ভোগদখল রয়েছি। ওই সময় কোমরকাশা জামালিয়া কমপ্লেক্সে আমার বাবার নামে ৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে দান করে দেয় আমি। ওই জায়গার মাটি মাদ্রাসার কমিটি ও সুপার আমার কাছে বিক্রি করে ওই মাটি আমি ২০ শতাংশ জায়গার উপর ফেলে মার্কেটের জায়গা করি। তখন আমাকে কেউ কোনো বাধা দেয়নি। ওই সময়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির লোকজন এই জায়গার উপর মার্কেট করার জন্য আমাকে অনেক ভাবে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করেন। আমি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে আমি এখানে মার্কেট করি। মার্কেট করার ৬ মাস পরে হঠাৎ মাদ্রাসার কমিটির দুই তিন জন দাবী করেন, এটাও মাদ্রাসার জায়গা। এই জায়গা নাকি আম্বর আলী মাদ্রাসা নামে দান করেছেন। অথচ ওই সময়ে আম্বর আলী ২০ শতাংশ জায়গা সাফ কবলা (খরিদা) দলিল করে মনিরুজ্জামান এর কাছে বিক্রি করে পেলেন।

মনিরুজ্জামান এর কাছ থেকে মূলত আমি জমি ক্রয় করি, জমির সকল কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। এই জায়গাটি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন এলাকার একটি অসাধু একটি চক্র। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ক্ষমতাশালী নেতাদেরকে দিয়ে আমাকে হুমকি-ধুমকি দিয়েছেন। আমি যেন এই জায়গাটি ছেড়ে দেই। আমার কষ্টের উপার্জনের টাকা দিয়ে আমি এই জায়গাটি ক্রয় করেছি। আমার জায়গাটি সঠিকভাবে ফেরে পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শিক্ষামন্ত্রী কচুয়ার সাংসদ সদস্য ড.আনম এহছানুল হক মিলন সাহেবের কাছে আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।
‎

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু সালেহে জানান, মাদ্রাসার জন্য ২০শতাংশ জায়গা দান করেছেন আম্বর আলী নামে এক দানশীল ব্যক্তি। এই জায়গা সহ ৭৫ শতক জায়গা ২০১০ সালে মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার জন্য মন্ত্রানলায় দলিল ও সকল কাগজপত্র দেন কমিটির নেতৃবৃন্দরা । এই জায়গা নিয়ে যতবার মনিরুজ্জামান আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ততবার মাদ্রাসার পক্ষে রায় এসে মামলা খারিজ করে দেয়। এই জায়গাটি মূলত মাদ্রাসার।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন