শাহরাস্তি উপজেলায় জ্বালানি তেল মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও অকটেনের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (০৪ এপ্রিল ২০২৬) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা (এসিল্যান্ড) এর নেতৃত্বে শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাঙ্গা এলাকার হান্নান ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে ডিজেল ও অকটেনের মজুদ যাচাই করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেলের মজুদ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অকটেন সরবরাহ নিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত ০১ এপ্রিল থেকে চার দিনে পর্যায়ক্রমে ৩০০০+৩০০০+৪৫০০ লিটারসহ মোট ১০,৫০০ লিটার অকটেন সরবরাহ পাওয়া গেলেও প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মোটরসাইকেল প্রতি ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেটকার প্রতি ১০০০ টাকার অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এ স্টেশনে দৈনিক অকটেন বিক্রি ছিল মাত্র ১৬০০ থেকে ২০০০ লিটার।
পরিদর্শনের সময় স্টেশন এলাকায় ২৫০ থেকে ৩০০টি মোটরসাইকেল অপেক্ষমাণ অবস্থায় দেখা যায়। সকাল ১১টা থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার পর বেলা ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩১০০ লিটার অকটেন বিক্রি হয় এবং আরও প্রায় ১৪০০ লিটার বিক্রি চলমান ছিল।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্যাগ অফিসার, শাহরাস্তি থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের একটি যৌথ টিম দায়িত্ব পালন করছে। একইসঙ্গে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তা আটক করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ২৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) নাজিয়া হোসেনের নির্দেশনায় উপজেলার হান্নান ফিলিং স্টেশন ও ওয়ারুক এলাকার কাজী ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় উভয় স্টেশনেই অকটেন সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে সীমিত সরবরাহ পেলে তা রেশনিং পদ্ধতিতে বিতরণ করা হয়।
অভিযানকালে স্টক রেজিস্টার যাচাই করে জ্বালানি তেলের মজুদ সঠিক পাওয়া যায় এবং পাম্প মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়—কোনো অবস্থাতেই জ্বালানি তেল মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না বা বিক্রি বন্ধ রাখা যাবে না।
এসিল্যান্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কেউ যদি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে বা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মো. মাসুদ রানা