প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ । ৯:৫২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমিতির কর্মকর্তা, দিশেহারা গ্রাহক

মোঃ মাসুদ রানা
শাহরাস্তি উপজেলায় একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে , ২০০৮ সালে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে ভোলদীঘী মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি। শুরুতে প্রায় এক যুগ সুনামের সঙ্গেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চললেও ২০২১ সালে এসে হঠাৎ স্থবির হয়ে পড়ে সমিতিটি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাড়ে ৩শ’ গ্রাহকের জমাকৃত প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন। ভোলদীঘী গ্রামের বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য গ্রাহক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা এখন যেকোনো মূল্যে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত চান। ভুক্তভোগী জাকির হোসেন জানান, তিনি নিজের ও পরিবারের সঞ্চিত ২১ লাখ টাকা ওই সমিতিতে জমা রাখেন।
টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রথমে টালবাহানা করা হয়, পরে একপর্যায়ে সমিতির কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যান। একই গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল হক, খাদিজা বেগম ও জাহানারা বেগমও একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। জীবনের শেষ সম্বল নিরাপদ ভেবে জমা রাখলেও এখন তা ফেরত পাওয়া নিয়ে তারা দিশেহারা। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম, আমেনা বেগম ও ঝড়না বেগমসহ আরও অনেকেই এ প্রতারণার শিকার হয়ে পড়েছেন।
অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সমিতির সভাপতি দুলাল পাটোয়ারী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিল্লাল হোসেন গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা আমার বিরুদ্ধেও আদালতে চারটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে দুটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধেও একটি মামলা বিচারাধীন আছে।
তিনি আরও বলেন, “বিল্লাল হোসেন ফিরে না আসা পর্যন্ত এ টাকার কোনো সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বিস্ময়কর হলেও সত্য, নিবন্ধিত এই সমবায় সমিতির মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে এমন প্রতারণার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই অজানা ছিল উপজেলা ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে।উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মোতালেব খান বলেন, কয়েক বছর আগে সমিতিটিকে সরকারি তালিকায় অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের অর্থ ফেরতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন