চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় রিপন প্রধান (২৭) নামের এক যুবকের শ্বশুর বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের ঢালী বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, নিহত রিপন প্রধান মতলব উত্তর উপজেলার লবাইর কান্দি গ্রামের আনামত উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামের ঢালীর মেয়ে। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী আপন নাম এক ছেলে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল সকালে ঢাকার খিলগাঁও নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে নাস্তার কথা বলে বের হন রিপন। খাদিজা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, রিপন অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে আছে। পরে রাতে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
নিহতের ভাই শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়িতে গেছে। কয়েকদিন আগে তার স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিশ হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে আমার ভাইকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, খাদিজা আক্তারের সঙ্গে অন্য পুরুষের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এছাড়াও রিপনের শ্যালক নুরে আলমের স্ত্রী কয়েক বছর আগে বিষ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা এ বাড়িতে ঘটেছে। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এদিকে স্ত্রী খাদিজা আক্তারের পরিবার বলেন, রিপন প্রধান বিষপান করে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রিপন প্রধানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, ঘটনারদিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার স্বামী আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে কল দিছে বাড়িতে আসার জন্য। আমি বাড়িতে আসার আগেই বিকেলে খবর আসছে স্বামী রিপন কেরির ট্যাবলেট খাইছে। তারপর আমি সিএনজি নিয়ে মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। স্বামীর অবস্থা খারাপ দেখে ডাক্তাররা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। এরপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়িতে চলে আসি।
খাদিজার বড় বোন হাওয়া বেগম বলেন, রিপন হঠাৎ ঘরে এসে বলতেছে কেরির ট্যাবলেট খাইছে। তারপর আমি এবং আমার ভাতিজা ফাহিমরে সাথে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করলে আমি সাথে যাই। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার রিপনের মৃত্যুর কথা বললে আমি লাশ রেখে বাড়ি চলে আসি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গতকাল রিপন প্রধানকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে অবস্থা খারাপ দেখে সাথে সাথে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করি।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি (তদন্ত) অখিল চন্দ্র বলেন, থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব