চাঁদপুরের পুরানবাজারের ভূঁইয়ার ঘাটে পল্টুনের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ওঠানামা করছেন শ্রমিকরা। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, শঙ্কিত ব্যবসায়ীরাও।
ব্যবসায়ীরা জানান, পুরানবাজার এলাকার মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীসংলগ্ন এই ঘাটটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য ওঠানামা হয়। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি পল্টুন থাকায়, বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে সেটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পল্টুন সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ২০১৭ সালের মে মাসে বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালকের কাছে দেওয়ানঘাট, ১ নম্বর ঘাট এবং জনতা মিলসংলগ্ন নতুন সড়কের মাথায় তিনটি পল্টুন স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, পল্টুনের অভাবে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত নতুন পল্টুন স্থাপন জরুরি।
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাজমুল আলম পাটওয়ারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নতুন পল্টুন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতা লবণ মিলসের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভূঁইয়ার ঘাটের পল্টুনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়েই পুরানবাজারের বেশির ভাগ মালামাল লোড-আনলোড হয়। তাই এখানে অন্তত একটি কার্যকর পল্টুন স্থাপন খুবই জরুরি।’
এ বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনব। দ্রুত এখানে একটি জেটি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আশা, দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ প্রতিনিধি