চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ক্লুলেস স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১৩) হত্যার রহস্য দীর্ঘ আট মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর উদ্ধারকৃত মাথার খুলি ও হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি নিখোঁজ শাকিবের দেহাবশেষ।
মামলা সূত্রে জানা যায় , গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে জয়নগর গ্রামের গাজী বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে শাকিব হাসান নিজের ঘরে অবস্থান করছিল। এসময় অজ্ঞাত কেউ নাম ধরে ডাকলে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায় এবং এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না পেয়ে তার দাদা মোন্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ছেলের নিখোঁজের সংবাদ শুনে সৌদি আরব থেকে দেশে ছুটে আসেন বাবা আব্দুল কাদের।
গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জনৈক মোস্তফা তার কৃষি জমিতে ঘাস পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খুলি ও ৭টি হাড় উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-০২/৫৬) দায়ের করে। পরবর্তীতে কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা শেষে ডিএনএ রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি নিখোঁজ শাকিবেরই।
জানা যায়, ডিএনএ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ০৭ মে ২০২৬ তারিখে শাকিবের বাবা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তদন্তে নামে।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গত ৯ মে সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আরমান গাজী (১৭), পিতা আবু কালাম (দাদন গাজী) ও মোঃ মেহেদী হাসান গাজী (১৭), পিতা- আক্কাস আলী গাজী উভয়ই জয়নগর গ্রামের গাজী বাড়ির বাসিন্দা।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দেয়। তারা জানায়, পুকুরে গোসল করার সময় তারা শাকিবকে পানির নিচে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মরদেহটি রশি দিয়ে পানির নিচে বেঁধে রাখে। রাত গভীর হলে তারা মরদেহটি পানি থেকে তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে এবং ইটের সাথে বেঁধে পুকুরের ডোবায় ডুবিয়ে দেয় যাতে লাশ কখনো ভেসে না ওঠে।
১০ মে ২০২৬ তারিখ আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করে।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, এটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। কোনো ক্লু না থাকায় মামলাটি তদন্ত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করি। ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

মোঃ রাছেল, কচুয়া