শাহরাস্তিতে এক রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে। ডাকাতদল নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের নাহারা গ্রামে ইতালি প্রবাসী মোঃ আমিনুল ইসলামের বাড়ি এবং খিলা গ্রামের মৃত আরিফুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ থেকে ১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রথমে নাহারা গ্রামের ইতালি প্রবাসী মোঃ আমিনুল ইসলামের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ঝরনা (৫৮)-কে মারধর করে।
এ সময় আলমিরা থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার, একটি বড় মুরগি, পাঁচ লিটার তেল, চারটি টর্চলাইট ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ডাকাতরা।
এ সময় পাশের কক্ষে থাকা ভাড়াটিয়া খিলা বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আখতারুজ্জামানকে ওই নারীকে দিয়ে ডেকে তোলা হয়। দরজা খোলামাত্র ডাকাতরা তাকে বেঁধে ফেলে এবং তার কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তবে যাওয়ার সময় তারা চারটি মোবাইল ফোন ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডাকাতদল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এরপর একই রাতে ডাকাতদল খিলা গ্রামের মৃত আরিফুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয়। সেখানে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আরিফুর রহমানের স্ত্রী আমেনা বেগম (৬০)-কে মারধর করে। এ সময় তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, ছেলের স্ত্রীর স্বর্ণের আংটি ও চেইন, চারটি টর্চলাইট, দুটি মোবাইল ফোন এবং আলমিরায় থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। যাওয়ার সময় ডাকাতরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে যায়, “চিৎকার দিবি না, মোবাইল সিঁড়ির নিচে রেখে যাব।”
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মীর মাহবুবুর রহমান-সহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা। সোমবার সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল হাই চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এসআই খলিলুর রহমান, এসআই আলামিন, খিলা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি