প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ । ৯:৪২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মরা খালে প্রাণের ছোঁয়া, কচুয়ায় ফিরছে কৃষকের স্বপ্ন

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবাহমান খাল পুনঃখননের উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, সেচ সংকট ও কৃষি দুর্ভোগ কাটিয়ে এখন বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন বুনছেন তারা।

জানা গেছে, উপজেলার ৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সহদেবপুর, নাংলা, দোজনা ও ফতেপুর এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালটি দীর্ঘদিন ধরে খড়কুটো, ময়লা-আবর্জনা ও পলিতে ভরাট হয়ে প্রায় মৃত অবস্থায় পরিণত হয়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে কৃষকদের বছরে মাত্র একটি ফসল ফলিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হতো। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধতায় ডুবে নষ্ট হতো ফসল।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কচুয়া উপজেলা অফিস ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় খালের দুই পাড়জুড়ে কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি। স্থানীয়দের আশা, খনন কাজ সম্পন্ন হলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদনে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

স্থানীয় কৃষক মোস্তফা বলেন, “পানির অভাবে আমরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। দূর থেকে সেচ পাম্প দিয়ে পানি এনে জমি চাষ করতে হতো, এতে খরচও ছিল অনেক বেশি। এখন খাল খননের ফলে পানির প্রবাহ বাড়বে, সেচ সংকট দূর হবে। আমরা রবি শস্য ও ইরি-বোরোসহ একাধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবো।”

তিনি আরও জানান, দোজনা ও ফতেপুর সংলগ্ন এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে পাঁচ গ্রামের মানুষ বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় কৃষক লোকমান হোসেন, আলাউদ্দিন ও মোহাম্মদ শিপনসহ আরও অনেকে বলেন, একসময় এলাকার সাত গ্রামের মানুষ কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় খাল ভরাট হয়ে পড়ে। ফলে গ্রীষ্মে দেখা দিত পানির তীব্র সংকট, আর বর্ষায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। এখন খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কৃষি জমিতে ফিরছে প্রাণ।

তারা জানান, খাল পুনঃখননের ফলে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়বে না, দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন ও জলাধার সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, “খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “এসব খাল পুনঃখননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।”

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন