শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায় খোর্দ্দ হতে শৈলখালী পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমধর্মী আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
১৬ মে, শনিবার ওই অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকের প্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য রাখা বর্গাচাষী কৃষক সাইফুল ইসলাম লিটনের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে নিজের পাশে বসান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিকতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক।
সাইফুল ইসলাম লিটনের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশী গ্রামের কোনার বাড়িতে। পেশায় তিনি একজন বর্গাচাষী কৃষক। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেই চলে তার সংসার। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি গরুও পালন করেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তার পরিবার।
বাবা-মা দু’জনই মৃত। অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম লিটন কৃষকের জীবনসংগ্রাম, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। কালো শার্ট, লুঙ্গি ও গলায় লাল গামছা জড়ানো তার সরল উপস্থিতি এবং আবেগঘন বক্তব্য জনসভায় উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠে কাজ করেই আমাদের জীবন চলে। কিন্তু বর্তমানে কৃষকের অবস্থা খুবই কঠিন। আমরা যে ফসল উৎপাদন করি, তার ন্যায্য মূল্য পাই না। অন্যদিকে সার, বীজ, তেল ও বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এতে কৃষকদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বড় কোনো দাবি নিয়ে আসিনি। আমরা শুধু আমাদের শ্রমের মর্যাদা ও ফসলের ন্যায্য দাম চাই। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
দেশের দায়িত্বশীল মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি কৃষি উপকরণের দাম কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” স্লোগান দেন। স্থানীয়দের মতে, প্রান্তিক কৃষক সাইফুল ইসলামের বক্তব্যে দেশের সাধারণ কৃষকদের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। তার সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী উপস্থাপনা জনসভায় উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কৃষকের এ বক্তব্য প্রত্যক্ষ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূর উদ্দিন অপু, স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি, তথ্য সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত তথ্য সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক কেন্দ্রীয় তাতীদলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী সমর্থক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

মোঃ মাসুদ রানা