চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিদেশি সংস্থার অনুদান দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নিম্নআয়ের পরিবার ও বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করে এই প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, চক্রটি বিদেশি একটি সংস্থার পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী অনুদান দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করত। প্রতিটি নামের বিপরীতে গরুর মাংস ২ দশমিক ৫ কেজি, বয়লার মুরগি ৫ কেজি, সয়াবিন তেল ৫ লিটার, চিনি, আটা, মসুর ডাল, মুগ ডাল, বুটের ডাল ও আতপ চাল ২ দশমিক ৫ কেজি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।
অনুদান পাওয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিটি নামের বিপরীতে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির নামে একাধিক তালিকাভুক্তি করে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মাসুম (৩৩), তাঁর বাড়ি কেরানীগঞ্জের কোল্ডা ১৪ কাউটাইল এলাকায়; ইয়াছিন মোস্তফা পায়েল (২৬), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পৌরপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা; এবং পলি (৪৯), ফতুল্লার লালপুর এলাকার বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ভাটিয়ালপুরের আজাদ ৬০টি নামের বিপরীতে ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, খুকি বেগম ১৬৬টি নামের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা এবং পারভীন ৪০টি নামের বিপরীতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া কাছিয়ারা, কেরোয়া ও ভাটিয়ালপুর এলাকার আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ৩ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন সময় এলাকায় এসে মানুষের আস্থা অর্জন করে টাকা সংগ্রহ করত। পরে অনুদান দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা আর এলাকায় আসেনি। এরপর নিজেদের প্রতারিত বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রতারণার শিকার হওয়া অধিকাংশ মানুষই নিম্নআয়ের গৃহিণী ও বয়স্ক ব্যক্তি। তাঁদের অনেকেই ধারদেনা কিংবা জীবনের সঞ্চয় থেকে টাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস. এম ইকবাল