চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার পশ্চিম নিজমেহার এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল দারোগা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা আহত হওয়ার পাশাপাশি তার স্ত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজার পরিবারের সঙ্গে তার চাচা জাহাঙ্গীর আলম ও চাচাতো ভাই শিমুলের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা সাংবাদিকের বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাঁঠাল পাড়তে শুরু করেন। এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে গালিগালাজের পর চাচা জাহাঙ্গীর আলম পেছন থেকে রাফিউ হাসান হামজাকে চেপে ধরেন। এ সময় চাচাতো ভাই শিমুল ধারালো দা দিয়ে তাকে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গেলে তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং পেটের ডান পাশেও আঘাতপ্রাপ্ত হন। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং কাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আহত সাংবাদিক ও তার স্ত্রী শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা বলেন, আমার চাচা জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছেন। চাচাতো ভাই শিমুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে পূর্বে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি, যা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আজকের হামলাটি ছিল পরিকল্পিত। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুল আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ও শিমুলের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের ব্যবহৃত নম্বর বন্ধ থাকায় কিংবা কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিনিধি