প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬ । ৩:২৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বরিশালে বাড়ছে এইডস রোগী, আক্রান্তদের বড় অংশ সমকামী

অনলাইন ডেস্ক

বরিশালে এইচআইভি সংক্রমণের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতালের পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ ও শিক্ষার্থী।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ২০৪ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, এসব রোগীর বেশির ভাগই পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌনসম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রীর শরীরেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক জসিম উদ্দিন বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যাদের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে, তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌনসম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাশরুর বিন আজাদ বলেন, আগে এই অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। তার মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ডা. মাশরুর বলেন, চিকিৎসা গ্রহণের সময় রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে সমকামী ব্যক্তির সংখ্যা বা এ সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারিভাবে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য বলছে, বরিশালে ৫ থেকে সাড়ে ৭ হাজারের মতো মানুষ সমাজ নিষিদ্ধ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত। এইডস প্রতিরোধে সরকারি কর্মসূচি চললেও তা নিয়ন্ত্রণে কতটুকু ভূমিকা রাখছে এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। গত এক বছরে দেশে প্রায় দুই হাজার এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন পারিবারিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়া আর সামাজিক অবক্ষয় তরুণদের এইডসের দিকে ঠেলছে। আর সচেতনতা ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে দাবি চিকিৎসকদের।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইব্রাহিম খলিল বলেন, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদারকি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাবও আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়ে না, এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তার লাভ করে। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন