চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন অসহায় মানুষ। সেই মামলায় গত কয়েকদিন যাবত জেল খাটছেন ওমান প্রবাসী এক যুবক।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গাবুয়া এলাকার একটি মসজিদের বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ৩১ মে রবিবার রাতে একই এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, ঘটনার সময় ঐ এলাকায় নারী সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে উক্ত এলাকার বাসিন্দা ওমান প্রবাসী রাছেল হাজীকে তার বন্ধু মালেক পাটওয়ারী ডেকে নেন। ওখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাসেল হাজী ও তার বন্ধু মালেক পাটওয়ারীকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন একই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ হোসেন সহ আরো কয়েকজন।
এসময় আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ হোসেনের নেতৃত্বে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে তাছলিমা বেগম, সাইফুল ইসলাম, হোসনেয়ারা বেগম ও ফয়সাল হোসেন ফাহিম গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাদেরকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহতদের ঢাকায় রেফার করেন।
এদিকে এদিন রাতেই রাসেল হাজী ও মালেক পাটওয়ারীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় আটজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন শরীফ হোসেন ও আব্দুল মোতালেব। মামলার আসামীরা হলেন- ওই এলাকার ফয়সাল হোসেন ফাহিম, মাহবুব খান, রুবেল খান, রাশেদ হাজী, সোহাগ হাজী, সাইফুল ইসলাম, রাসেল হাজী ও হারুন অর রশিদ।
পরদিন সোমবার গ্রেফতারকৃত মালেক পাটওয়ারীকে পুলিশ ছেড়ে দিলেও রাসেল হাজীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এ মামলায় বুধবার (৩ জুন) ছয়জনকে জামিন দেন চাঁদপুর আদালত। একই সাথে মামলার ১নং আসামী আইনজীবী সহকারী ফয়সাল ও ৭নং আসামী প্রবাসী রাসেল এর জামিন না মঞ্জুর করেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবী, রাসেল হাজী দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে থেকে গত কয়েকদিন আগে দেশে আসেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাশেদ হাজী ও মাহবুব খান বলেন, তারা পূর্বের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর প্রতিশোধ নিতে আমাদের পরিবারের উপর হামলা চালায়। এমনকি আমাদের কয়েকজনকে আসামী করে থানায় একটি মিথ্যা মামলাও দিয়েছেন। সেই মামলায় আমাদের এক ভাই ওমান প্রবাসী রাসেল হাজীকে পুলিশের কাছে তুলে দিয়ে জেল খাটাচ্ছেন। আমরা প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর সমাধান চাচ্ছি।
এ বিষয়ে মামলার এক বাদী আব্দুল মোতালেব বলেন, ঘটনারদিন রাতে আমি একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে আসার পথে তারা আমার উপর হামলা চালায়। তবে অন্য আরেকটি ঝামেলাকে কেন্দ্র করে এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার থানায় নিয়ে গেলে পরদিন একজনকে ছেড়ে দেন। একই সঙ্গে দুজনকে আটক করে একজনকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উনি বিএনপি নেতা হওয়ায় হয়তো তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিনিধি