প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ । ১২:০৪ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদার দাবিতে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আমার দেশ প্রতিনিধির ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় আমার দেশ পত্রিকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঘাটের ইজারাদার মোস্তফা মাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আরেক যাত্রীকেও মারধর করা হয়েছে। হামলার শিকার অপর যাত্রী হলেন বরিশালের উজিরপুরের বাসিন্দা সজীব সন্ন্যামাত।

সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনার পর দুই ভুক্তভোগী চাঁদপুর সদর থানায় পৃথক দুটি জিডি করেছেন। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর যথাক্রমে LC6MJO এবং 8NHNOO। এছাড়া ভুক্তভোগী সাংবাদিক চাঁদপুর নৌ থানায় মৌখিক অভিযোগও করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চাঁদপুর নৌ পুলিশের অফিসার ইন চার্জ মো. ইকবাল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে দুটি মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের চাঁদপুর ঘাটের লোক পরিচয় দিয়ে রশিদ ছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। মোটরসাইকেলের মালিকরা রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে ব্যাপক মারধর করা হয়। মারধরের শিকার হওয়া যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত তার জিডিতে উল্লেখ করেন, মোটরসাইকেল নিয়ে বরিশালে ফেরার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছালে ঘাটের কয়েকজন লোক তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি রশিদ চাইলে তারা কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তার কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ঘটনায় দায়ের করা অপর জিডিতে সাংবাদিক মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল বরিশালে ফেরার পথে তিনি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছান। সুন্দরবন-১২ লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ৩০০ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা আদায়ের কারণ ও রশিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে রশিদ ছাড়াই টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে হঠাৎ ইজারাদার মোস্তফা মাল ঘটনাস্থলে এসে সহযাত্রীকে মারধর করেন। পরে সাংবাদিক মাসুদ রানার কাছেও এসে টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চান এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি শারীরিক হামলা চালান বলে জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

এতে তার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে এবং মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সুন্দরবন-১২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সজীব সন্ন্যামাত বলেন, “আমি লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে তিন-চারজন ব্যক্তি আমার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। আমি তাদের কাছে রশিদ চাইলে তারা কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি।

রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় আমার বোন আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে রশিদ ছাড়াই টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেলসহ লঞ্চে উঠতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

হামলার শিকার সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, “বাসা থেকে কর্মস্থল বরিশালে যাওয়ার পথে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আমার ও আরেক যাত্রীর দুটি মোটরসাইকেল লঞ্চে তুলতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি কোনো রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করেন। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ শুরু করেন।

পরে আমি পেশাগত পরিচয় দিলে মোস্তফা মাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি কোনো কথা না শুনেই আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এতে আমার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে এবং মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার মোস্তফা মাল মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে তার ভুল স্বীকার করেন ও ক্ষমা চান ।

এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ থানার ওসি ইকবাল আমার দেশকে বলেন, হামলার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া জিডির কপিও হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন