শাহরাস্তি উপজেলায় গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির এক অসহায় পরিবারের সন্তান ওই শিশু। তার বাবা-মা উভয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অভাবের কারণে প্রায় সাত মাস আগে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়িতে গৃহকর্মের কাজে যাওয়া-আসা শুরু করে সে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে ৬০ বছর বয়সী নাসিরউদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি শিশুটির ওপর নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুটিকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও লোকলজ্জার কারণে শিশুটি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত নাসিরউদ্দিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবন্ধী মা বলেন, আমার মেয়েটার জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে সে এতদিন মুখ খুলতে পারেনি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে চিতোষী পূর্ব ইউপির ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়। একটি অসহায় পরিবারের শিশুর সঙ্গে এমন অমানবিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ মাসুদ রানা