চাঁদপুরের মহামায়ায় পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে)-এর উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মহামায়া শাখা কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যপরামর্শ, ওষুধ এবং চক্ষুসেবা প্রদান করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, চর্ম ও যৌনরোগ, সার্জারি এবং চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেন।
সেবাদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. লিমন আহমেদ, ডা. রোসল রানা, ডা. ইবরাহিম, ডা. জাহিদ ও ডা. আব্দুল্লাহ আল মারুফ। ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন মহামায়া এরিয়ার সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আবু সাঈদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক আলতাব হোসেনসহ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে মো. আবু সাঈদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ এখনও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় পিএমকে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মহামায়া এ ক্যাম্পে রোগীদের প্রেসক্রিপশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চক্ষু রোগীদের পাওয়ারের চশমা ও চোখের ড্রপ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শাখা ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএমকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, মা ও শিশু কল্যাণ, চক্ষুচিকিৎসা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারী উপকারভোগী বলেন, ভালো চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধ কেনা অনেক সময় তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চক্ষুসেবা পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন। এক প্রবীণ সেবাগ্রহীতা বলেন, একসঙ্গে এতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়া তাদের জন্য বড় সুযোগ ছিল। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন।
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পিএমকের প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেল্থ ডা. কাজী সুদীপ্তা কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি