প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ । ১০:৩০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে প্রেসক্লাব কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের সংবাদ প্রকাশ করায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে এ হামলা ও মারধর করেন, হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

তিনি স্থানীয় সন্ত্রীদের ভাড়া করে প্রেসক্লাব থেকে তুলে এনে সাংবাদিককে মারধর করেন। আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে কর্মরত আছেন।

খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হলুদ পট্টির ওই আবাসিক হোটেলের নিচতলা হাজী আনোয়ার মঞ্জিল থেকে সাংবাদিককে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

জানা গেছে, লোকমুখে দীর্ঘদিন ধরে পতিতাবৃত্তি ও লোকজনকে মারধর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, হাজীগঞ্জ আনোয়ার মঞ্জিল ও মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেনের লিটনের বিরুদ্ধে। সবশেষ গত শনিবার ওই হোটেল থেকে নিখোঁজ এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই সময়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবাসিক হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি খোলা রেখে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। খবর পেয়ে ওই হোটেল থেকে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ অনৈতিক কাজে অভিযুক্ত যুবক ও যুবতিকে আটক করে।

এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ ওই অনৈতিক কাজের সংবাদটি প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হন ফারুক হোসেন লিটন। তিনি অজ্ঞাতনামা ভাড়া করা ১০/১২জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে যান এবং সেখান থেকে তাকে তুলে তাঁর আবাসিক হোটেল ভবনে নিয়ে মারধর করেন।

এদিকে সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদকে টেনে হেঁছড়ে ও মারধর করা অবস্থায় তুলে নেওয়ার বিভিন্ন স্থানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মূহৃত্বেই ভাইরাল হয়ে যায়। এঘটনায় সচেতনমহল, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এ বিষয়ে আহত সাংবাদিক হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন, ছেলে তাওহীদ হোসেন ও তার বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযুক্ত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অপর নামীয় আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত ও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহিৃত করা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনা করায় মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।

এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম উপস্থিত ছিলেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন