প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ । ১০:৪৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে আগুনে পুড়ে ছাই ১০ বছরের স্বপ্ন, পথে বসার শঙ্কায় মুদি ব্যবসায়ী

মো. মাসুদ রানা
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে এক ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ীর একমাত্র উপার্জনের উৎস। প্রায় ১০ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা দোকান মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপির  ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভড়ুয়া (বসুপাড়া) এলাকায় ভড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘মেসার্স মিলি স্টোর’-এ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতায় দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল স্টেশন মাস্টার নাসিম রেজা নিলুর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দোকানে থাকা একটি ফ্রিজসহ সব ধরনের মুদি পণ্য সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
দোকানটির মালিক ভড়ুয়া এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. মনির হোসেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে দোকানটি পরিচালনা করে পরিবারের ভরণপোষণ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই সন্তানের জনক মনির হোসেনের স্ত্রী একজন প্রতিবন্ধী। সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই দোকান। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পরিচালনার জন্য তিনি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। দোকানের আয় দিয়েই তিনি সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনির হোসেন গণমাধ্যমকে  বলেন, এই দোকানটাই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কীভাবে পরিবার চালাবো বুঝতে পারছি না। সরকার, সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই, যাতে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারি। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনির হোসেনের পরিবার বর্তমানে মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার আওতায় এনে পরিবারটিকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সময়মতো সহযোগিতা পেলে তিনি আবারও ব্যবসা শুরু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন