প্রকাশের সময়: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ । ৯:২৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯ দিনেও খাবার মুখে তোলেনি খানজাহান আলী দিঘির সেই কুমির

অনলাইন ডেস্ক

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটি খুলনায় স্থানান্তরের পর থেকে কিছুই খাচ্ছে না। হস্তান্তরের পর ১৯ দিন হলেও মাছ, মুরগি কিছুই খায়নি প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটি। এমনকি সহজ শিকারের জন্য জীবন্ত হাঁস বেঁধে রাখা হলেও সেটিও খায়নি।

তবে সরীসৃপ প্রাণীর ক্ষেত্রে বিষয়টি স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সরীসৃপ প্রাণী একবার খেলে অনেক দিন না খেয়ে থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে একসময় ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি কুমির ছিল। সেগুলো মারা যাওয়ার পর ভারতের মাদ্রাজ থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কুমির মারা যাওয়ার পর কেবল একটি কুমির বেঁচে আছে।

এরই মধ্যে ১ জুন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। ওই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন রাতে প্রাণীটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৩ জুন প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এরপর থেকে সেটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের অনুরোধেই কুমিরটিকে উদ্ধার করে আনা হয়েছিল। ৩ জুন সকালে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুপুরের মধ্যে কুমিরটিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। আপাতত আরও প্রায় এক মাস এটি সেখানে রাখা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বন বিভাগের তত্ত্বাবধানেই থাকবে প্রাণীটি।

নির্মল কুমার পাল আরও বলেন, খাবার গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরীসৃপ প্রাণী দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে এটি যেহেতু চর্বিবহুল, তাই ৭ থেকে ১০ দিন বা তারও বেশি সময় না খেয়ে থাকতে পারে। আমরা মুরগি দিয়েছি, মাছ দিয়েছি, এমনকি জীবন্ত হাঁসও বেঁধে রেখেছি, যেন সহজে শিকার করতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে কিছুই খায়নি। তবে কুমিরটির মধ্যে শিকারের প্রবৃত্তি রয়েছে। আমাদের দেওয়া একটি মুরগি কুমিরটি ধরে মেরে ফেললেও সেটি খায়নি।’

কুমিরটির পরিচর্যায় কোনো ঘাটতি নেই বলেও দাবি বন বিভাগের। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অ্যানিমেল কিপার ও ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ টিম নিয়মিত দেখভাল করছে। এখানে আগে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া বেঙ্গল টাইগারেরও সেবা করা হয়েছে। কুমিরটির জন্য প্রতিদিন পানি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ওপরে উঠলে পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাইরে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না।’

 

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন