চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভার বদরপুর গ্রামে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাতের আঁধারে কৃষি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
এতে আশেপাশের জায়গা ও কৃষি জমি নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। নারায়ণপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হেলাল পাটোয়ারী তার বাড়ির পাশের ফসলী জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে রাতের আঁধারে এ মাটি বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত পাঁচদিন যাবত রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পাওয়ারট্রলি (ট্রাক্টর) দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ওই মাটি বিক্রি করছেন জামায়াত নেতা মো. হেলাল পাটোয়ারী। ওই মাটি নেওয়ার সময় বদরপুর ও.এস দাখিল মাদ্রাসার সরকারি রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। হেলাল পাটোয়ারী স্থানীয় এলাকার সরকার দলের লোকজনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে এই মাটি বিক্রি করছেন বলে এলাকাবাসী জানান। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি ও টাকা উত্তোলন সব কিছুই দেখা শোনা করেন মাসুদ নামে এক ব্যক্তি।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে নারায়ণপুর ভূমি অফিস থেকে কর্মকর্তারা গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে মাটিকাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়ার পরও রাতের আঁধারে মাটি বিক্রি বন্ধ করেনি হেলাল পাটোয়ারী।
এ বিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, হেলাল পাটোয়ারী ফসলি জমিতে পুকুর কাটার কথা বলে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রি করেই চলছে। এমনকি তিনি মাদ্রাসার সরকারি রাস্তা কেটে ফেলেছে গাড়ি যাওয়া-আসা করার জন্য। এলাকাবাসী আরও জানান, বদরপুর বকাউল বাড়ির বিল্লাল হোসেনের কাছে ৩ হাজার টাকা করে ২৬ গাড়ি, কবির বকাউলের কাছে ৫ গাড়ি, কুদ্দুস বকাউলের কাছে ১৫ গাড়ি, কাশিমপুর বেপারী বাড়ির আবুল হোসেন ও মাসুদসহ আরো অনেকের কাছে মাটি বিক্রি করেন হেলাল পাটোয়ারী। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে হেলাল পাটোয়ারী মাটি বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি মাছ চাষ করার জন্য বাড়ির পাশে পুকুর খনন করছি।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আশ্রাফ আলী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানালে আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ রাখতে বলেছি।

নিজস্ব প্রতিনিধি