দীর্ঘদিনের দাবির পর চাঁদপুরবাসীর জন্য সুখবর এসেছে। চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে লোকসানের অজুহাতে পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল ট্রেনগুলোও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ ও চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের যৌথ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
গত ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে (স্মারক নং- ০৩. ০০. ২৬ ৯০. ০০০.০০৫.১৪.০০০১.২৬-২২৭) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।পত্রে উল্লেখ করা হয়, সংসদীয় আসন ২৬২ (চাঁদপুর-৩)-এর সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ এবং সংসদীয় আসন ২৬৪ (চাঁদপুর-৫)-এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৃথক আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু এবং পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনসমূহ পুনরায় সচলের আবেদন জানান।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর থেকে সরাসরি কক্সবাজার ও সিলেটে রেল যোগাযোগ না থাকায় জেলার হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অন্যতম ভরসা হিসেবে পরিচিত কয়েকটি লোকাল ট্রেন লোকসানের কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ফলে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পাশাপাশি বন্ধ লোকাল ট্রেন পুনরায় চালুর দাবিও দীর্ঘদিনের ছিল।
এ বিষয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, “চাঁদপুরের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমাদের যৌথ আবেদনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সাড়া দেওয়ায় আমরা চাঁদপুরবাসীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, “চাঁদপুর-কক্সবাজার ও চাঁদপুর-সিলেট রুটে সরাসরি ট্রেন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে আমরা দুইজন সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চাঁদপুরের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি), কোচ ও বগির প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই নির্দেশনার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। দ্রুত নতুন ট্রেন চালু এবং বন্ধ লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু হলে জেলার যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।

মোঃ মাসুদ রানা