পরিবর্তনই জীবন ও জগতের চিরন্তন সত্য। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবকিছুই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। সেই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এসেছে নানা উত্থান-পতন, সংগ্রাম ও নতুন অধ্যায়।
তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে, যখন তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন। পরবর্তীকালে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
২০০৬ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের উদ্যোগ নেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সামরিক সমর্থিত সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর ওপর হত্যাচেষ্টাসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রচণ্ড নির্যাতনের পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। প্রচলিত প্রবাদ আছে—‘রাখে আল্লাহ, মারে কে।’ ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। ২০০৯ সালে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দল পরিচালনা শুরু করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। পরবর্তীকালে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি সুনামের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছেন বলে সমর্থকদের দাবি।
সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির প্রতিফলন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অসম্মানিত করেন।
— লেখকের নিজস্ব মতামত।
লেখক পরিচিতি
সহকারী অধ্যাপক (বাংলা)
মাছিমপুর ফাজিল মাদ্রাসা
মূলপাড়া, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর

মো. বিনইয়ামীন