প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ । ৯:০০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সেভেন হর্স সিমেন্টের বস্তায় লেখা ৫০ কেজি, ওজনে ৪২; সাংবাদিককে মামলার হুমকি

এস. এম ইকবাল
একটি সিমেন্টের বস্তা—গায়ে লেখা ৫০ কেজি। নির্মাণকাজের জন্য সেটিই ছিল একজন ক্রেতার ভরসা। কিন্তু কাজ শুরুর আগে সেই ভরসার ওজন যাচাই করতে গিয়েই সামনে আসে ভিন্ন এক চিত্র। ডিজিটাল স্কেলের পর্দায় ভেসে ওঠা সংখ্যাগুলো যেন নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়, লেখা আর বাস্তবের মধ্যে এত পার্থক্য কেন?
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, নিজের স-মিলের স্থাপনা নির্মাণের জন্য তিনি ৫০ বস্তা সেভেন হর্স সিমেন্ট ক্রয় করেন। নির্মাণস্থলে নেওয়ার পর সন্দেহ হওয়ায় বিক্রেতার উপস্থিতিতে কয়েকটি বস্তার ওজন ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করা হয়।তার দাবি, প্রথম বস্তায় ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজি ওজন পাওয়া যায়। পরে আরও দুটি বস্তা পরিমাপ করলেও নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অনেক কম পাওয়া যায়। তিনটি বস্তার নির্ধারিত মোট ওজন ১৫০ কেজি হলেও স্কেলে দেখা যায় ১৩৮ কেজি।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি মো: ফয়সাল ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন এবং পূর্বে প্রকাশিত ভিডিও অপসারণ করে কোম্পানির পক্ষে সংবাদ প্রকাশের কথা বলেন।
অন্যদিকে, সেভেন হর্স সিমেন্টের চাঁদপুর জোনের এরিয়া ম্যানেজার মতিউর রহমান বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেছেন। তার ভাষ্য, কয়েকটি বস্তায় ওজনের ঘাটতি পাওয়া গেছে এবং সেগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবহনের সময় কোনো কোনো বস্তা ছিঁড়ে গেলে ট্রলারেই নতুন বস্তায় পুনরায় ভরা হয়। এমন প্রক্রিয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজনের তারতম্য ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিমেন্টের বস্তাগুলোর ওজন পরীক্ষা করেন। চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, সরেজমিনে কয়েকটি বস্তায় নির্ধারিত ওজনের তুলনায় সর্বোচ্চ ৮ কেজি পর্যন্ত ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ভুক্তভোগী মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি শুধু চাই, আমার মতো আর কোনো ক্রেতা যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।
একজন ক্রেতার সন্দেহ থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় এখন উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে। ততদিন পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ ও তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন