চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, মুদি দোকান, ফলের দোকান ও রেস্টুরেন্টে পরিচালিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ স্বপন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই ) দিনগত রাতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদপুরের নির্দেশনায় শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মিষ্টির দোকানে ওজনে কম, মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি সংরক্ষণ এবং বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুটি মুদি দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের প্রমাণ মেলায় তাদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার বিষয়ে প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই অনিয়ম পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
এছাড়া শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং খাদ্য সংরক্ষণের স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ না করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন সিনিয়র জুডিসিয়িয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্দ্ধন ও আবদুল মান্নান।
অভিযানে বিএসটিআই কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মকর্তা, জেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা ও বিপণন কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন, বিএসটিআইয়ের মানদণ্ড এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান এবং ভোক্তাদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক