প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ । ১০:৪০ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বজয়ী হাফেজ, কাবা শরিফে প্রবেশের বিরল সম্মানও পেয়েছেন চাঁদপুরের শায়খ আব্দুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশে কুরআনের হিফজ ও তাজভীদের অঙ্গনে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত একটি নাম হাফেজ ক্বারী শায়খ আব্দুল হক। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আকিয়ারা গ্রামের এই কৃতি সন্তান শুধু দেশের প্রথম বিশ্বজয়ী হাফেজই নন, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পবিত্র কাবা শরিফের অভ্যন্তরে প্রবেশের বিরল সম্মানও লাভ করেছেন।

প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কুরআনের শিক্ষা, হিফজ ও তাজভীদের প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কারজয়ী বহু হাফেজ ও ক্বারী। এ কারণেই তিনি ‘উস্তাযুল হুফফাজ’ বা বিশ্বজয়ী হাফেজদের উস্তাদ হিসেবে পরিচিত।

১৯৯০ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম স্থান অর্জন করেন শায়খ আব্দুল হক। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বজয়ী হাফেজ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেন।

এর তিন বছর পর, ১৯৯৩ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সৌদি আরব সরকার তাঁকে পবিত্র কাবা শরিফের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ দেয়। মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের পাশাপাশি সৌদি আরবে দীর্ঘ দুই বছর ইমাম ও কুরআনের শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশে ফিরে কুরআনের শিক্ষা বিস্তারে আরও সক্রিয় হন এবং হাজারো শিক্ষার্থীকে হিফজ ও তাজভীদের প্রশিক্ষণ দেন।

১৯৮০-এর দশক থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন শায়খ আব্দুল হক। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে এনেছেন।

কুরআনের শিক্ষা আরও বিস্তৃত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘শায়খ আব্দুল হক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এবং অনলাইনে মাখরাজ, তাজভীদ ও হুফফাজ মুয়াল্লিম (শিক্ষক প্রশিক্ষণ) কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

কুরআন শিক্ষাকে সহজ ও কার্যকর করতে তিনি একাধিক গ্রন্থও রচনা করেছেন। এর মধ্যে ‘হিফযুল কুরআন শিক্ষক সহায়িকা’, ‘তাজভীদসহ রঙিন তাহফীযুল কুরআন’ এবং ‘সহজ হাফেজী কুরআন’ উল্লেখযোগ্য।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আকিয়ারা গ্রামের এই কৃতিমান আলেমের আন্তর্জাতিক অর্জন ও দীর্ঘদিনের কুরআনসেবা দেশের ধর্মীয় শিক্ষার অঙ্গনে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন