প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ । ৪:২১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের ফকির বাজারে রিয়াজের অপচিকিৎসায় পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে একাধিক নারী ও শিশু

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজারে ‘মা মেডিসিন কর্নার’-এ চেম্বার খুলে রিয়াজুল হক ওরফে রিয়াজ নামে এক কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল ও অপচিকিৎসার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অ্যালার্জিজনিত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে এই ভুয়া চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণে একাধিক নারী ও শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফকির বাজারের গল্লাক বাজার রোডে অবস্থিত ‘মা মেডিসিন কর্নার’-এ রিয়াজুল হকের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে তিনি ভুক্তভোগীদের শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর থেকেই আক্রান্তদের শরীরে গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতা দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অভিযোগ, শরীরে যেসব স্থানে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, সেসব স্থানে গভীর ক্ষতের (ঘা) সৃষ্টি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষত আরও গুরুতর আকার ধারণ করছে। ইনজেকশন দেওয়া হাত প্রচণ্ড ব্যথায় ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর ব্যথার তীব্রতায় হাত দিয়ে লিখতেও পারছে না।

সরেজমিনে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশু ও নারীদের এই করুণ দৃশ্য দেখা যায়। দেড় বছর বয়সী শিশু আব্দুল আহাদের মা রোকসানা জানান, সন্তানের অ্যালার্জির সমস্যার জন্য তিনি রিয়াজের কাছে গেলে তাদের দুজনকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর থেকে শিশু ও মায়ের ইনজেকশনের স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

এই কথিত চিকিৎসকের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছেন দেড় বছরের শিশু আব্দুল আহাদ, ইয়াসিন (১১), জিহাদ (১৫), হাফেজি মাদ্রাসার ছাত্র আহাদ হোসেন (১৩) এবং ফাতেমা বেগমসহ (৬৫) আরও অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রিয়াজুলের ভুল চিকিৎসার পর তারা দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েও এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাননি।

ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গঠিত একটি চিকিৎসক দল সরেজমিনে তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ভুল ও মানহীন ইনজেকশন প্রয়োগের কারণেই এই মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৬ মাস ধরে প্রতারক রিয়াজুলের কারণে আমার স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ। স্ত্রী আক্রান্ত হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে পারছে না, অসহ্য ব্যথায় দিনরাত কাতরাচ্ছে। আর দেড় বছরের শিশু সন্তানটির শারীরিক বৃদ্ধি থমকে গেছে। রিয়াজুলের কারণে আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন একটি অসাধু চক্র ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নানা ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে যে তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়েছে, তাদের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তিও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানোর অনুরোধ করেছেন সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার ব্যাক্তিবর্গরা।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূর আলম দ্বীন বলেন, চিকিৎসক না হয়েও কারও চিকিৎসা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অন্যায়। আর ভুল চিকিৎসা দিয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন করা নিশ্চিতভাবেই একটি বড় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকার সচেতন মহল ও সমাজসেবীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন