চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুকে অবস্থিত মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে সফলভাবে একটি হেমি থাইরয়েডেক্টমি (Hemi Thyroidectomy) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি একটি সূক্ষ্ম ও তুলনামূলকভাবে জটিল অস্ত্রোপচার, যা সাধারণত বিশেষায়িত হাসপাতালে বেশি হয়ে থাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এক রোগী। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দক্ষ চিকিৎসক ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি) টিমের সমন্বয়ে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে রোগী সুস্থতার পথে রয়েছেন।
অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন ইএনটি সার্জন ডা. শীহাব শাহীন। তাঁকে সহযোগিতা করেন সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান, ডা. দিপংকর চন্দ্র ভৌমিক এবং হাসপাতালের দক্ষ ওটি টিম। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তৌহিদুর রহমান সজীব।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, “উন্নত চিকিৎসাসেবা শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এ ধারণা বদলাতে আমরা কাজ করছি। দক্ষ চিকিৎসক, অভিজ্ঞ টিম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলে মফস্বলের হাসপাতালেও আধুনিক ও জটিল অস্ত্রোপচার নিরাপদে সম্পন্ন করা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।”
এটি ডা. মো. আরিফ উল হাসানের প্রথম আলোচিত অস্ত্রোপচার নয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই হাসপাতালে তিনি এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেন। পরে একই বছরের আরেকটি অস্ত্রোপচারে ২২ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের আরেকটি টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি এক ব্যক্তির পায়ুপথে আটকে থাকা প্রায় ৬ ইঞ্চি আকারের একটি ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই সফলভাবে বের করে আলোচনায় আসেন। ঘটনাটি সে সময় দেশব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীর বাইরে মফস্বল পর্যায়ে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক। এতে একদিকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কমছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ধারাবাহিকভাবে জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্যের কারণে ডা. মো. আরিফ উল হাসান শাহরাস্তিসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মফস্বল অঞ্চলেও আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সাইফুল ইসলাম সিফাত