সারাদেশের ন্যায় শাহরাস্তির গ্রামাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে সরকারের উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ কর্মসূচির নিবন্ধন কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওই সভায় উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার যোগ্য শিক্ষার্থীকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এ উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। এ সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শিক্ষা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সরকারের একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। অনেক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায়। তাদের খুঁজে বের করে পরিচর্যা করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। উপজেলার একটি যোগ্য শিক্ষার্থীও যেন নিবন্ধনের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “শুধু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
সভায় জানানো হয়, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী, অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে ৩১ আগস্ট ২০১৬-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে। নিবন্ধনের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি প্রয়োজন হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, টেনিস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিসসহ মোট ১৮টি ইভেন্টে বালক ও বালিকারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
সভায় আরও জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইন নিবন্ধন চলবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা notunkurisports.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন।
সভা শেষে বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভাদের খুঁজে বের করে সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে দেশের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

মোঃ মাসুদ রানা