প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ । ১০:৩৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা ও সুরকি। রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। কখন জানি ছাদ ভেঙে পড়ে মাথার উপর  এ নিয়ে হাসপাতালের ভিতরে রোগীরা থাকে শঙ্কায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ৪০ জন কিন্তু বর্তমানে আছে ১৮ জন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১৯২ কিন্তু আছে ১১৬ জন। রয়েছে নার্স সংকট। নেই এনেস্থিসিয়া ডাক্তার। হচ্ছে না কোনো সিজারিয়ান অপারেশন। হাসপাতালে নেই এম্বুল্যান্স। নেই এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার শত শত রোগী আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। কেউ সিটে আবার কেউ কেউ আছে ফ্লোরে। হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলা, দ্বিতীয় তলায় ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্থানগুলো থেকে পলেস্তারা ও সুরকি ভেঙে পড়ছে।অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের রোগীরা ওই স্থানগুলো এড়িয়ে চলছেন। আর যখন বাধ্য হয়ে ওই স্থান ব্যবহার করছেন, তখন তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুধু রোগীই নন, এমন আতঙ্ক দেখা গেছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যেও।
মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লাহ বলেন, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম তিনদিন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে মেয়ের ওষুধ আনার জন্য বাইরে যাচ্ছিলাম। হাঁটছি আর আতঙ্ক নিয়ে বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তিনি আরও বলেন, দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পরেই ছাদের ফাটলের স্থান। মাঝে মধ্যেই সিমেন্ট ও সুরকির বড় বড় অংশ পড়ছে। এ স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। এভাবে একটি হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।
উপজেলার বরদিয়া এলাকার আরেক রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এই হাসপাতালে এসে থাকি আতঙ্কে। কোন সময় যেনো মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ। হাসপাতাল ভবনের অনেক জায়গায় ভেঙে ভেঙে পড়েছে। আবার হাসপাতালে পরিক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য নাই কোনো মেশিন। পর্যাপ্ত মেশিন ও ভবন সংস্কার করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
ফারজানা নামের এক রোগীর অভিভাবক জানান, এক ঘণ্টা ধরে তাঁরা চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সবার নজর একটু পরপরই ছাদের দিকে। কারণ কখন ছাদের পলেস্তারা খসে তাঁদের ওপর পড়ে। আতঙ্কে থাকতে হয়েছে যতক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলার ছাদে ফাটল আছে। খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ। জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লিফলেট লাগানো হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরা সঠিকভাবে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, হাসপাতালের পলেস্তারা ভেঙে খসে পড়ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে মেশিন সরঞ্জাম ও চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকট রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে এ ব্যাপারে আমি জেনেছি। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন