প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ । ১২:০২ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ৫০–৬০টি গাছ কাটার অভিযোগ, বাধা দিতে গিয়ে আহত ৩

এস. এম ইকবাল
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গাছ কাটায় বাঁধা দিতে গেলে  বৃদ্ধ আব্দুল করিম(৬০)কে মারধর করা হয় । এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর মেয়ে ও নাতনিও আহত হন। আহত আব্দুল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আইটপাড়া এলাকায়।
আহতরা হলেন আব্দুল করিম (৭৫), তাঁর মেয়ে তাছলিমা আক্তার (২৩) এবং নাতনি তানিশা আক্তার (১২)। আব্দুল করিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালত ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তির আগেই প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনায় প্রাণনাশের আশঙ্কায় গত ৩ জুলাই আব্দুল করিম চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা করেন। গত ২৩ জুলাই আদালতের নোটিশ প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানাযায়, শুক্রবার সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি ছোট-বড় গাছ কেটে ফেলে। এতে বাধা দিতে গেলে আব্দুল করিমকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর মাথা, কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম এবং মাঝার হাড় ভেঙ্গে যায়। বাবাকে ও নানাকে রক্ষা করতে গেলে তাছলিমা আক্তার ও তানিশা আক্তারও মারধরের শিকার হন।
এ ছাড়া হামলার সময় তাছলিমা আক্তারের গলা থেকে আট আনি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং তানিশা আক্তারের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীন, রাসেল, রায়হান, রাকিব, আয়শা বেগম, লাকী বেগম, ছকিনা বেগম ও ফারিয়াসহ মোট নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. উজ্জ্বলসহ কয়েকজন স্থানীয় জানান, অভিযুক্তরা জমিসংক্রান্ত বিরোধকে প্রায়ই আব্দুল করিমকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। ভয়ভীতিকে কেন্দ্র করে গত কিছুদিন পূর্বে আব্দুল করিম আদালতে মামলা দায়ের করে। সে আলোকে ২৩ জুলাই আদালত থেকে নোটিশ আসার পর থেকেই তারা আব্দুল করিমের উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং শুক্রবার সকালে দেশীয় অস্রহাতে জমি দখল করতে যায়, এসময় তারা প্রায় ৫০-৬০টি গাছ কেটে ফেলে এবং আব্দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক মারধর করে। পরে ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের পক্ষের ছকিনা বেগম বলেন, করিম আমাদের বিরুদ্ধে বারবার মামলা করে আসছে। এতে আমাদের ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়েছে। তাদের সাথে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্তদের আরেক স্বজন লাকী বেগম বলেন, আমরা সকালে ঘুমে ছিলাম, ঘুম থেকে উঠে দেখি আব্দুল করিম গংদের হাতাহাতি চলছে। আমরা মারামারির সাথে সম্পৃক্ত নই, তবে আব্দুল করিমদের গাছের ডাল পড়ে আমাদের ঘরের চাল ভেঙ্গে পেলে প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে আব্দুল করিম জানান, অভিযুক্তদের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও তারা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। তাদের বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাদের মারতে আসে এবং হুমকি ধামকি প্রদান করে। এ নিয়ে গত ৩ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করি। গত ২৩ জুলাই আদালত থেকে নোটিশ আসার পর থেকে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং জায়গা দখল করতে আসে। এসময় তারা আমাদের বিভিন্ন প্রজাতির ৫০-৬০ গাছ কর্তন করে। আমরা বাঁধা দিতে গেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ আমার মেয়ে ও নাতনি আহত হই। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমরা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। পরে গাছ ফেলেকাটা ও হামলার বিষয়ে আমরা চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ বিচার দাবি করছি।
তিন আরও জানান, তারা আমাকে তাদের হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে মাজায় আঘাত করার কারণে আমার মাজার হাড় ভেঙে যায়। আমি বর্তমানে খুবই ব্যাথা যন্ত্রণায় ছটফট করছি। এরপর তারা ২৬ জুলাই আবারো আমার আম গাছ কেটে নিয়ে যায়। তারা আমার উপযুক্ত মেয়েকেও শৃলতা হানির চেষ্টা করে। তাকে বেদম মারধর করে। তাঁর প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে আমাকে সামনে ফেলেই খুন করে ফেলবে।
সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মহসিন হোসেন জানান, এ বিষয়ে আব্দুল করিম বাদী হয়ে গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের আলোকে একাধিকবার শালিশী বৈঠক করা হলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে শালিশী বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে। উল্লেখিত বিষয়ে গত শুক্রবার সকালে জয়নাল আবেদীন গংরা আব্দুল করিমসহ তার পরিবারের উপর হামলা চালায় এবং ৫০-৬০ টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পেলে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন