প্রকাশের সময়: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ । ৭:৪৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ওষুধের প্যাকেটে বিদেশে ইয়াবা পাচারচেষ্টা, উদ্ধার ৩৬০ পিস

মোঃ মাসুদ রানা
শাহরাস্তিতে  ওষুধের প্যাকেটের ভেতরে ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে বিদেশে পাচারের অভিনব কৌশল উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এক ব্যবসায়ীর সতর্কতা ও শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে ভেস্তে যায় পাচারচক্রের পরিকল্পনা।
এ সময় ওষুধের দুটি প্যাকেটের ভেতর থেকে ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ আট হাজার টাকা। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউপির  ভোলদিঘী বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওইদিন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, ভোলদিঘী বাজারের গাজী স্টোরে ওষুধের প্যাকেটের ভেতরে সুকৌশলে ইয়াবা লুকিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কিলো-৭ ডিউটিতে নিয়োজিত এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ আল আমিন ভূঁইয়াকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ফিনিক্স-২০ ও রাবিপ্রাজল সোডিয়াম বিপি ২০ মিলিগ্রাম ওষুধের দুটি প্যাকেটের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ১৮টি পাতায় মোট ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিদেশে অবস্থানরত শাহরাস্তি উপজেলার ওই ইউপির মালরা গ্রামের  (ভূঁইয়া বাড়ি) এলাকার আরিফ হোসেনের স্ত্রী রুনা আক্তার ওইদিন ( শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের)  দিকে ভোলদিঘী বাজারের হাক্কানী ট্রেডার্সের পরিচালক এনায়েত হোসেনের কাছে একটি লাল-নীল রঙের শপিং ব্যাগে কচটেপে মোড়ানো একটি প্যাকেট দিয়ে যান। সেটি মালরা (মজুমদার বাড়ি) এলাকার রাশেদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্যাকেটটির ওজন, মোড়ক ও উপস্থাপন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এনায়েত হোসেন স্থানীয় লোকজনকে উপস্থিত করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে সেটি খুলে দেখেন। এ সময় ওষুধের প্যাকেটের ভেতরে ইয়াবা ট্যাবলেট দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শাহরাস্তি মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইয়াবাগুলো জব্দ করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গৃহবধূ রুনা আক্তার আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে । পুলিশ তাকে আটকের  জন্য  বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে । পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং জনসচেতনতার কারণে তাদের অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। ওষুধের প্যাকেটের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে বিদেশে পাচারের এই অভিনব কৌশলও আমরা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক আসামিকে আটকের  অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীর বিচক্ষণতা এবং পুলিশের দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপের কারণে একটি সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারা মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কার্যকর তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন