প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:১০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন প্রজন্মের এক অনুপ্রেরণার নাম মতলব দক্ষিণের শাহজালাল জিলানী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
কিছু মানুষের জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয় বরং তা হয়ে ওঠে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
তেমনি এক অদম্য চাকুরিজীবী পৌঁছেছেন  সাফল্যের উচ্চতায়। তিনি কঠোর পরিশ্রম ও প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে সাধারণ চাকরিজীবি থেকে হয়েছেন বিকাশ লিমিটেডের প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ডিভিশনের সার্ভিস অপারেশনস্ বিভাগের একজন সফল ভাইস প্রেসিডেন্ট।
বলছিলাম চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সারপাড় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মিঞা বাড়ির আব্দুল জব্বার মিঞার ছেলে মোহাম্মদ শাহজালাল জিলানীর কথা। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহজালাল জিলানী সবার বড়।
শাহজালাল জিলানী ২০০১ সালে নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ২০০৩-২০০৪ সেশনে ঢাকার সরকারি সিটি কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) এবং ২০১০ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে এমএ (মাস্টারর্স) শেষ করেন।
শাহজালাল জিলানী শিক্ষাজীবন শেষ করে ২০১১ সালে জুনিয়র অফিসার হিসেবে বিকাশ লিমিটেডে যোগদানের মধ্য দিয়ে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের দক্ষতা, সততা, নেতৃত্বগুণ এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলায় তিনি আজ বিকাশ লিমিটেডের প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ডিভিশনের, সার্ভিস অপারেশনস্ বিভাগের একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না তার। কাজের চাপ, নতুন দায়িত্ব, প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত প্রযুক্তি এবং কঠিন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কখনো দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কখনো নতুনদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় আসে ২০২২ সালে। হঠাৎ করেই তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। ওখান থেকে ব্রেইন ক্যানসার। এরপর শুরু হয় জীবনের আরেকটি যুদ্ধ। অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাঁকে সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি হার মানেননি।
তিনি বিশ্বাস রেখেছেন মহান আল্লাহর প্রতি। বিশ্বাস রেখেছেন নিজের সাহস ও মানসিক শক্তির উপর। পরিবারের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া তাঁকে আবার নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে তিনি আবার কাজে ফিরে এসেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে এবং আরও দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়েছেন।
২০২৬ সালের ৩০ জুলাই বিকাশের বার্ষিক আয়োজন ‘বিকাশ এমপ্লয়ি নাইট’ এ তাঁকে তার এই দীর্ঘ ১৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল কাদীর তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং এটি একজন মানুষের নিষ্ঠা, ধৈর্য, সততা এবং সংগ্রামের স্বীকৃতি।
এই অর্জনের বিষয়ে শাহজালাল জিলানী বলেন, আজকের এই অর্জনের জন্য আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমি কৃতজ্ঞ আমার পরিবার, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আমার সকল সিনিয়র লিডারদের প্রতি। যাঁরা সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বিকাশ আমাকে শুধু একটি কর্মজীবন দেয়নি বরং আমাকে একজন মানুষ হিসেবে আরও শক্তিশালী এবং পরিণত করে তুলেছে। আমি চাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে। সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই আমি সামনের পথে এগিয়ে যেতে চাই।
একজন সাধারণ চাকরিজীবি থেকে একজন করপোরেট নেতা হয়ে ওঠার এই গল্প আমাদের শেখায় যে, প্রতিকূলতা কখনোই একজন মানুষের শেষ পরিচয় হতে পারে না। সাহস, সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিই একজন মানুষকে তাঁর প্রকৃত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। মোহাম্মদ শাহজালাল জিলানীর জীবনের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে। ব্যক্তি জীবনে শাহজালাল জিলানী এক সন্তানের জনক।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন