চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন ‘মেঘনা এক্সপ্রেস’ এখন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীর জন্য এক চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ইঞ্জিন, সময়সূচি বিপর্যয় এবং রেলওয়ের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রেনের নিয়মিত যাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, কিছুদিন পরপরই মেঘনা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। এতে গন্তব্যে পৌঁছানো তো দূরের কথা, বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম আর্থিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হতে হয় নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের। নিয়মিত ইঞ্জিন বিকল হওয়া যেন এ রুটের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানান, “ব্যবসা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে নিয়মিত চট্টগ্রাম যেতে হয়। কিন্তু মেঘনা এক্সপ্রেসের ওপর আর ভরসা রাখা যাচ্ছে না। কখন যে মাঝপথে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে আটকে থাকতে হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরপরও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই।”
এছাড়া রেললাইনের নড়বড়ে অবস্থা, বগিগুলোর জরাজীর্ণ দশা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ যাত্রীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নিয়মিত টিকিটের চড়া দাম দিয়েও মিলছে না সর্বনিম্ন সেবাটুকু। বারবার ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনাটি কেবল যাত্রীদের সময় নষ্ট করছে না, বরং রেলের সার্বিক নিরাপত্তাকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।
রেলওয়ের এই খামখেয়ালি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা অবিলম্বে মেঘনা এক্সপ্রেসে আধুনিক ও শক্তিশালী ইঞ্জিন সংযোজন, ত্রুটিমুক্ত রেললাইন নিশ্চিত করা এবং সেবার মান উন্নত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীসাধারণ।

নিজস্ব প্রতিনিধি