প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:৫৭ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন ড্রাম ট্রাকের মরণফাঁদ

আবু সাঈদ, কচুয়া

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক। অতিরিক্ত বালু বোঝাই এসব ট্রাকের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যস্ত এই সড়ক। এতে পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বালু ও অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে শত শত ড্রাম ট্রাক চলাচল করে। অনেক ট্রাকে অতিরিক্ত বালু বোঝাই করা হয়। খোলা অবস্থায় বালু পরিবহনের কারণে চলন্ত অবস্থায় তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে উড়ে সেই বালু পথচারী, মোটরসাইকেল চালক ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের চোখে-মুখে পড়ছে।

সড়কে পড়ে থাকা বালু সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় পরিণত হয়ে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি এবং কার্পেটিং উঠে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ১১ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচো এলাকায় কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ১৮ জন আহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ড্রাম ট্রাক চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করেন। চালকদের দক্ষতা, লাইসেন্স ও যানবাহনের কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করার সুযোগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত ভার বহনকারী ড্রাম ট্রাকের কারণে সড়কের স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আঞ্চলিক মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশ দ্রুত নষ্ট হলে তা সংস্কারে আবারও সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, ওভারলোডিং বন্ধ, খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন নিষিদ্ধ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা দরকার।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলে প্রাণহানি ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন