ঢাকার টিকাটুলি আল-আরাফা বাস কাউন্টার থেকে এক যাত্রী (স্কুল শিক্ষকের) বড় কার্টনসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভায়া শাহরাস্তি গেইট রামগঞ্জগামী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের কোচে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ মাহবুব আলম সুমন । তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মডেল পাইলট উঃবিঃ আইসিটি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক।
অভিযোগকারী জানান, শনিবার দুপুরে তিনি ঢাকার টিকাটুলি আল-আরাফা বাস কাউন্টারের সামনে রিকশাযোগে পৌঁছান। এ সময় তাঁর সঙ্গে একটি বড় কার্টনসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। কাউন্টারের এক কর্মী রিকশা থেকে কার্টনটি নিজ হাতে নিয়ে তাঁকে টিকিট কাটতে কাউন্টারে যেতে বলেন।
পরে তিনি ৪০০ টাকা ভাড়ায় এসি বাসের টিকিট নেন। টিকিটে যাত্রার সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিট, কোচ নম্বর ১২৪ এবং আসন নম্বর C-4 উল্লেখ রয়েছে। টিকিটটি ‘সুজন (টিকাটুলি-৪)’ নামে ইস্যু করা হয়।সুমনের অভিযোগ, টিকিট কাটার পর ওই কর্মী তাঁকে বাসে গিয়ে বসতে বলেন এবং তাঁর বড় কার্টনটি বাসের বক্সে তুলে রাখার আশ্বাস দেন। কর্মীর কথায় আস্থা রেখে তিনি বাসে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
তিনি শাহরাস্তি (গেইট দোয়াভাঙ্গা) পৌঁছানোর পর বাসের বক্সে গিয়ে মালামাল খুঁজতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর বড় কার্টনটি নেই। কার্টনের ভেতরে থাকা মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা বলে দাবি তাঁর। এ বিষয়ে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা কার্টনটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। পরে আল-আরাফা কাউন্টারে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাউন্টারের কর্মী তাঁর কার্টনটি নিজ হাতে নেওয়ার পর বাসের বক্সে রাখার কথা বলেছিলেন। এরপর মালামালটি নিখোঁজ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাঁর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে সুমন বলেন, কাউন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বাসে মালামাল ওঠানো ও নামানোর বিষয়টি যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হতে পারে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মালামাল উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগকারীর দাবি, আল-আরাফা বাসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সন্তোষজনক জবাব পাননি। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর ০১৭১৬৮৪৩৫২২ বলে জানান তিনি।
এদিকে, বাসের টিকিটে যাত্রীদের মোবাইল, পাসপোর্ট, ভিসা, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিজ দায়িত্বে রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সুমনের দাবি, তাঁর বড় কার্টনটি কাউন্টারের কর্মী নিজ হাতে নিয়ে বাসের বক্সে রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে আল-আরাফা বাস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগটির সত্যতা ও মালামাল নিখোঁজের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী। তাঁর প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি নিখোঁজ মালামাল উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর ওই বাস সার্ভিসের মোটর শ্রমিকদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী অনেক যাত্রী। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। যাত্রীসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সময়ের ব্যবধানে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পরিবহন সেবাটি তার সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি